সিলেট সিটি কর্পোরেশন ( সিসিক) নির্বাচন-২০১৮

0
218
এক নজরে সিলেট সিটি নির্বাচন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

হোসেন আল মাদনী

ডেইলি২৪বিডি-

ঢাকাঃ সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর গতকাল নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলযোগ, হাঙ্গামা,গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ছাড়াও ব্যালট পেপার ছিনতাই, জালভোট প্রদান এবং বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। যার ফলে অনেক ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে না পেরে বিফল মনোরথ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমার সহধর্মিনী ও পূত্র-কেউই ভোট দিতে পারেন নি !

সিলেট নগরীর রায়নগর-সোনারপাড়াস্থ বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীনরা অনেক ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে, এ কেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও কেন্দ্রটি পুরোপুরি দখলে চলে যায় ক্ষমতাসীন দলের লোকদের। এ কেন্দ্রে ২ টার পরে অনেক চেষ্টা করে যখন আমার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছিলাম, তখন প্রত্যক্ষ করলাম- কতিপয় যুবক ভোট দিচ্ছে,যাদের কোনো পরিচয় জানতে চাচ্ছেন না কিংবা স্মার্ট কার্ড দেখছেন না ভোট গ্রহণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা! যুবকরা যে ভোটার নাম্বার বলছেন, ঐ ভোটার নাম্বারের বিপরীতেই তাদের হাতে ব্যালট পেপার তুলে দেয়া হচ্ছে। এমনকি তাদের বাম হাতের আঙ্গুলে কোনো কালিও লাগিয়ে দেয়া হচ্ছেনা। মনে মনে ভাবলাম “ওরা আমার মতো সাধারণ ভোটার নয়, ওরা অসাধারণ। অভিজাত ও উচ্চ বংশোদ্ভূত। ” আমার জন্য নির্বাচনে ভোট দানের যে বিধি-বিধান, তাদের জন্য এসব প্রযোজ্য নয়!

রায়নগর এলাকায় অবস্থিত সার্ক স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রেও পরিকল্পিত হাঙ্গামা সৃষ্টি করে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একই অবস্থা সৃষ্টি করা হয় এমসি কলেজ, সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়,সহ নগরীর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে।

হাউজিং এস্টেট এলাকার একটি কেন্দ্রে ভোটারের দীর্ঘ লাইন। আর ব্যালট পেপার নেই, শেষ হয়ে গেছে বলে প্রিসাইডিং অফিসার ব্যালট পেপার নিয়ে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে বসে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। নগরীর পাঠানটোলায় একটি কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তার সম্মুখে প্রভাবশালী এক সাবেক কাউন্সিলর অনেক ব্যালট পেপারে সিল মারলেন বীরদর্পে।

বাংলাদেশের ‘আধ্যাত্মিক রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত পূণ্যভূমি সিলেট। এখানে শায়িত আছেন ওলিকূল শিরোমনি হযরত শাহজালাল রহঃ এবং তদীয় সহচর হযরত শাহপরাণ রহঃ সহ অগণিত আউলিয়া-দরবেশ। যাদের কর্মের মহিমায় সিলেটের মাটি ও মানুষ হয়েছে ধন্য এবং গৌরবাান্বিত। তাই এ মাটির শান্তিপ্রিয় মানুষ কখনও কোনো বদনাম কিংবা কলঙ্কের দায়ভার গ্রহণে অভ্যস্ত নয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here