হতাশ খালেদা: আদালতে যাননি তার কোন সিনিয়র আইনজীবি

0
211

ডেইলি২৪বিডি

ঢাকাঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় আজ বুধবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে উপস্থিত হয়ে বিএনপি নেত্রী ও জিয়া অরফানেজ ষ্ট্রাষ্ট মামলার প্রধান আসামী বেগম খালেদা জিয়া তার সিনিয়র কোন আইনজীবিকে না দেখতে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
খালেদা জিয়া বলেন, “আমি অসুস্থ। আমি বারবার আদালতে আসতে পারব না। আর এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যাবে। আমার সিনিয়র কোনো আইনজীবী আসেনি। এটা জানলে আমি আসতাম না।”
অাগে থেকেই এ মামলাটির যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের দিন ছিল আজ। সকাল ১১ টায় বিচারক মোঃ আক্তারুজ্জামান আদালতে বসলে দুপুর ১২ টার দিকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে আসেন বেগম জিয়া।

মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়ে আসছেন বিএনপিপন্থী অনেক সিনিয়র আইনজীবি। কিন্তু, মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির কোন আইনজীবি আজ আদালতে যাননি। এতে হতাশ হন খালেদা জিয়া এবং আদালতে বসে থাকলে শারীরিকভাবে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যাবেন বলে জানান।
খালেদা জিয়ার কোন আইনজীবি আদালতে না আসলে ঢাকা আইনজীবি সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ঢাকা আইনজীবি সমিতির সভাপতি হিসেবে এসেছি, মামলার বিবাদী খালেদা জিয়ার কোন আইনজীবি উপস্থিত না থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করার অনুরোধ করছি’।

আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবিদের না আসার কারণ হিসেবে তারিখ ও স্থানের ব্যাপারে তারা জানেননা বলে জানান ঢাকা আইনজীবি সমিতির সভাপতি। কিন্তু সে অজুহাত প্রত্যাখ্যান করেন দুদকের আইনজীবি মোশাররফ হোসেন কাজল।তিনি বলেন স্থান ও তারিখ সম্বলিত প্রজ্ঞাপনটি যথাযথ ভাবে খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবি সানাউল্লাহ মিয়ার কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যান্য আইনজীবিদেরকে ব্যাক্তিগতভাবে জানোনো হয়েছিল। এরপর তিনি আদালতের কার্যক্রম শুরু করার অনুরোধ জানান।

শুনানী শেষ হলে বিচারক আক্তারুজ্জামান আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন এবং উক্ত দিবস পর্যন্ত আসামীদের জামিন বহাল রাখেন।

আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমার কোনো সিনিয়র আইনজীবী আজ আদালতে ছিল না। তাদের যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি। প্রজ্ঞাপনটি সাত দিন আগে কেন করা হয়নি। আদালতকে জানিয়েছি, আমি অসুস্থ, বারবার আসতে পারব না।”

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত এই বিশেষ আদালতে আজই প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হল। খালেদা জিয়ার আইনজীবিরা নতুন এ আদালতের কথা জানেন না বলে আদালতকে বলা হলেও মূলত বিএনপির সিনিয়র আইনজীবিদের এ মামলা চালাতে অনীহা ও তাদের ব্যাস্ত দৈনন্দিন কার্যক্রম বরাবরই জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নিতি মামলার কার্যক্রমকে মন্থর করে দিয়ে আসছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here