কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের হাতে অপব্যবহারের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণা ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং আল জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, নাইজেরিয়াভিত্তিক বোকো হারামের দুই শাখার সাবেক সদস্যরা এআই চ্যাটবটকে প্রযুক্তিগত ও সামরিক পরামর্শের জন্য ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP) রয়েছে, যা আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
গবেষণাটিতে বোকো হারামের দুই শাখার ২৭ জন সাবেক সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাদের কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, ChatGPT, Claude, Gemini, Grok, Meta AI ও DeepSeek-এর মতো বিভিন্ন এআই সেবা হামলার আগে, হামলার সময় এবং পরবর্তী পর্যায়ে তথ্য ও পরামর্শের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি মূলত সাবেক যোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার ও অনুসন্ধানী গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অর্থাৎ এসব বক্তব্যকে প্রতিটি ঘটনার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ক্যামব্রিজের গবেষণায় বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, পরবর্তী সময়ে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা আরও বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
একই সময়ে টেক এগেইনস্ট টেররিজমের গবেষকেরা আইএস-সমর্থকদের একটি অনলাইন প্রযুক্তি ফোরামে এআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে এআই নিরাপত্তাব্যবস্থা পাশ কাটানোর প্রবণতার একটি উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গা শুধু এআই দিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া নয়; বরং কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা সমস্যার ভিত্তিতে দ্রুত উত্তর পাওয়ার সক্ষমতা। এ কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে এআই পৌঁছানো প্রচলিত অনলাইন প্রচারণা ও যোগাযোগের ঝুঁকিকে আরও জটিল করতে পারে বলে গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।
এআই কোম্পানিগুলো তাদের সিস্টেমে সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্র তৈরিসংক্রান্ত ক্ষতিকর ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখে। কিন্তু গবেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, ব্যবহারকারীরা এসব নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যেতে পারলে প্রযুক্তির অপব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
