ভারতের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচে জয় পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজেই ট্রোলের শিকার হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হংকং সিক্সেস ২০২৬ টুর্নামেন্টে ভারতকে ৪ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পাকিস্তান দলকে অভিনন্দন জানান তিনি। তবে ছয় ওভারের এই টুর্নামেন্টে জয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখানোর অভিযোগ তুলে তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেন অনেক ব্যবহারকারী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ও এনডিটিভি প্রফিটের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জয়ের পর কী লিখেছিলেন শেহবাজ শরিফ?
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের পর নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে শেহবাজ শরিফ লেখেন, হংকং সিক্সেস ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪ উইকেটের দারুণ জয় পাওয়ায় দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন। তিনি ম্যাচটিকে ভালো ক্রিকেটের লড়াই বলেও উল্লেখ করেন।
একই পোস্টে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং তাঁর দলকেও প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও সহযোগিতায় তাঁদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একটি অংশ তাঁর এমন উচ্ছ্বাসকে ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
নেটিজেনদের যত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
শেহবাজ শরিফের পোস্টের পর এক্সে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, ছয় ওভারের একটি টুর্নামেন্টে জয় পাওয়ার পর দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এতটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হচ্ছে কেন?
এক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লেখেন, ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য অভিনন্দন। এটি যেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে জয় পাওয়ার মতো অর্জন, যা বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপের চেয়েও বড়।
আরেকজন মন্তব্য করেন, এবার তাহলে এক সপ্তাহের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া উচিত।
কেউ কেউ আবার হংকং সিক্সেসের মতো সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের টুর্নামেন্টে জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এমনকি কয়েকজন ব্যবহারকারী প্রথমে সন্দেহ প্রকাশ করেন, পোস্টটি সত্যিই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে কি না।
তবে এসব প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের মন্তব্য। এগুলোকে সব ক্রিকেটপ্রেমীর অভিন্ন মত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পোস্টে ছিল একটি তথ্যগত ভুলও
শেহবাজ শরিফের পোস্টে আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিকে হংকং সিক্সেসের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। অথচ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিপক্ষে খেলেছিল পাকিস্তান।
সেই ম্যাচে ইউএইর কাছে ১ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তান। ফলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিকে উদ্বোধনী ম্যাচ বলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আরও সমালোচনা হয়।
মাঠে কী ঘটেছিল?
শুক্রবার হংকংয়ের মং কক এলাকার মিশন রোড গ্রাউন্ডে টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘সি’ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৬ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান সংগ্রহ করে ভারত।
ভারতের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন শশাঙ্ক সিং। মাত্র ১১ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা। এ ছাড়া নীতিশ রানা করেন ১৯ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান মাত্র ৩ দশমিক ৫ ওভারেই ৯১ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। দলের হয়ে খাজা নাফে মাত্র ১২ বলে অপরাজিত ৪১ রান করেন। অন্যদিকে আব্বাস আফ্রিদি মাত্র ৮ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ক্রুণাল পান্ডিয়ার এক ওভারে টানা পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন আব্বাস।
শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।
কী এই হংকং সিক্সেস?
হংকং সিক্সেস প্রচলিত ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো নয়। এটি ছয়জন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত দলের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রতিটি দল ছয় ওভার করে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়। দ্রুত রান তোলা এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এই প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ।
এ কারণে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তুলনায় এই টুর্নামেন্টের ধরন ও গুরুত্ব আলাদা। তবে ভারত-পাকিস্তানের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই হওয়ায় ম্যাচটি দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
মাঠে পাকিস্তানের জয় হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল শেহবাজ শরিফের অভিনন্দন বার্তা। একটি ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফলকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিক্রিয়া কীভাবে অনলাইন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে, ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ।
