পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতায় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চান তারেক-শেহবাজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিপ্রবাহ নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে পাকিস্তানের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে তারেক রহমানও বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তার সরকারের পক্ষ থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান। দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন উভয় প্রধানমন্ত্রী।

দুই পক্ষের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই নেতা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে উঠে আসে। বিশেষ করে জাতিসংঘে পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন দুই নেতা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। তবে বৈঠকের বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো নতুন চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য সহযোগিতা ক্ষেত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *