স্বর্ণকে সাধারণত গয়না, বিনিয়োগ কিংবা মূল্যবান ধাতু হিসেবে দেখা হলেও আধুনিক প্রযুক্তির জগতে এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশযান থেকে শুরু করে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রে স্বর্ণ নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মূল কারণ শুধু এর মূল্য নয়; বরং স্বর্ণের বিশেষ কিছু ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য।
স্বর্ণ বিদ্যুতের ভালো পরিবাহক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি সহজে মরিচা বা ক্ষয় ধরে না। অন্যান্য ধাতুর মতো স্বর্ণের ওপর সহজে অক্সাইডের স্তর তৈরি হয় না। ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে নির্ভরযোগ্য পরিবাহিতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অত্যন্ত ক্ষুদ্র সংযোগস্থল, কানেক্টর, সুইচ ও সার্কিটের নির্দিষ্ট অংশে স্বর্ণের ব্যবহার দেখা যায়।
স্মার্টফোনের মতো ছোট ডিভাইসে স্বর্ণের পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে এর ব্যবহার প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফোনের সার্কিট বোর্ডে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক উপাদানের সংযোগ এবং নির্ভরযোগ্য সিগন্যাল আদান-প্রদানের জন্য স্বর্ণের পাতলা আবরণ বা সংযোগ ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার, সার্ভার, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য উচ্চনির্ভরযোগ্যতার ইলেকট্রনিক যন্ত্রেও একই ধরনের প্রয়োগ রয়েছে।
মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বর্ণের ব্যবহার আরও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মহাকাশযান ও স্যাটেলাইটে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রাংশে স্বর্ণের পাতলা আবরণ তাপ ও বিকিরণ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে। স্বর্ণ ইনফ্রারেড বিকিরণের একটি বড় অংশ প্রতিফলিত করতে সক্ষম হওয়ায় নির্দিষ্ট মহাকাশযানের উপাদানকে অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় এর ব্যবহার দেখা যায়। অবশ্য মহাকাশযানের সব অংশে স্বর্ণ ব্যবহার করা হয় না; প্রয়োজন ও নকশা অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপাদানেই এটি প্রয়োগ করা হয়।
স্বর্ণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর নমনীয়তা। অত্যন্ত পাতলা স্তরে একে প্রয়োগ করা যায়, ফলে খুব অল্প পরিমাণ ধাতু ব্যবহার করেই কাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এ কারণে দাম বেশি হলেও গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক বা মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বর্ণের ব্যবহার অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক হতে পারে।
তবে প্রযুক্তিতে স্বর্ণের ব্যবহার নিয়ে পরিবেশগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক বর্জ্যে থাকা মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নতুন করে কাঁচামালের প্রয়োজন কমানো সম্ভব। তাই ভবিষ্যতে উন্নত ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
