মালিতে সমন্বিত হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত, বাড়ছে অস্থিরতা
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি-তে সামরিক স্থাপনাগুলোতে চালানো সমন্বিত হামলার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন কামারা। তাকে অনেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে বিবেচনা করতেন।
আলজাজিরার সাংবাদিক Nicolas Haque জানান, রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের সামরিক শহর কাটি এলাকায় কামারার বাসভবনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। কাটি সাধারণত অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও হামলাকারীরা সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিম এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট। তারা একযোগে রাজধানী বামাকো ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের গাও, কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরে হামলা চালায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিদাল অঞ্চলে এখনো ভারী গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, এবং হামলার ২৪ ঘণ্টা পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট অস্সিমি গোয়েট চাপের মুখে পড়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়, যদিও বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকাবিষয়ক দপ্তর। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো এখনো দুর্বল এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, মালিতে চলমান সহিংসতা নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটকে গভীর করেছে, যা দেশটির স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।