বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন আদালত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার মার্কিন সরকারের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস এই নীতিকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করেন। আদালতের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ধরনের জাতীয়তাভিত্তিক ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, তা আইনি কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছিল। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া ও আরও কয়েকটি দেশের নাম ছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে এই নীতি নিয়ে শুরু থেকেই আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, জাতীয়তার ভিত্তিতে এত বড় পরিসরে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা দীর্ঘদিনের মার্কিন অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছিল।
সর্বশেষ রায়ে বিচারক ভার্গাস বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা প্রদান সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার এই নীতি কংগ্রেস নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে পুনরায় চালু হবে এবং পররাষ্ট্র দপ্তর এর বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, তা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য রায়টি ইতিবাচক হলেও, ভিসা কার্যক্রমের বাস্তব পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
