পোলাওয়ের চালের দাম দ্বিগুণ, অথচ কৃষকের ঘরে ধান নেই
রাজশাহীতে পোলাওয়ের চালের দাম গত ছয় মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ছয় মাস আগে যে চিনিগুঁড়া চাল প্রতি কেজি প্রায় ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন পাইকারি বাজারেই তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন মূল্যবৃদ্ধি তাঁরা আগে দেখেননি।
অন্যদিকে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কৃষকদের আয় নিয়ে। উৎপাদনের মৌসুমে কৃষকেরা তুলনামূলক কম দামে চিনিগুঁড়া ধান বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে এখন বাজারে ধান ও চালের দাম বাড়লেও সেই বাড়তি দামের সুবিধা তাঁদের হাতে নেই। দিনাজপুরের এক কৃষক জানিয়েছেন, গত মৌসুমে ৭৫ কেজির এক বস্তা চিনিগুঁড়া ধান ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। দাম আরও বাড়ার আগেই তাঁর ঘরের ধান শেষ হয়ে যায়।
বর্তমান বাজারদর আরও চমকপ্রদ। দিনাজপুরের এক চালের আড়তদারের তথ্য অনুযায়ী, ধান ওঠার সময় ৭৫ কেজির এক বস্তা প্রায় ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও পরে তা ৬ হাজার এবং বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ কৃষকের কাছ থেকে ধান বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরবর্তী পর্যায়েই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বিদেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানির কথা বলছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি মোট ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে। তাঁদের দাবি, রপ্তানির কারণে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে রপ্তানিই পুরো মূল্যবৃদ্ধির কারণ কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
চিনিগুঁড়া ধানের বড় একটি অংশ উৎপাদিত হয় দিনাজপুরে। এবার সেখানে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে এই ধানের আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। তবু বাজারে সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ফলে পোলাওয়ের চালের বর্তমান বাজারচিত্রে একদিকে ক্রেতাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদনকারী কৃষকেরা সেই মূল্যবৃদ্ধির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
