বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সৌরবিদ্যুতের পথে শিল্পগোষ্ঠী

সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছে বড় শিল্পগোষ্ঠী, নিজেরাই উৎপাদন করতে পারে ৬০০ মেগাওয়াট

দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো নিজেদের কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে দ্রুত ঝুঁকছে। গত দুই বছরে শিল্পকারখানার ছাদে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ইতিমধ্যে ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর বড় অংশই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সাধারণত একটি কারখানার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে না। তবে দিনের কয়েক ঘণ্টা কারখানার কার্যক্রম চালাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ থেকে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ হচ্ছে। এতে দিনের বেলায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমছে।

বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, আকিজ বশির, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, রাইজিং গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। প্রাণ-আরএফএল বিভিন্ন কারখানায় ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং তাদের মোট সক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াটের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে আকিজ বশির গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৭৫ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।

মেঘনা গ্রুপও বিভিন্ন কারখানায় ৬৪.৮৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যোগ করার পরিকল্পনা করেছে। তা বাস্তবায়িত হলে তাদের মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১৫ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে।

সৌরবিদ্যুতের প্রতি শিল্পোদ্যোক্তাদের আগ্রহের অন্যতম কারণ জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানো। সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তাদের মতে, একটি সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের আয়ুষ্কাল প্রায় ২০–২৫ বছর এবং প্রাথমিক বিনিয়োগের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পরিচালন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম।

আইইইএফএর হিসাবে, বড় শিল্পকারখানার পাশাপাশি ছোট স্থাপনাগুলোও হিসাবের আওতায় আনলে বাংলাদেশের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *