দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। চলতি মাসের প্রথম তিন দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আয়ের প্রবাহ প্রবাসীদের অব্যাহত অবদানের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠান। এই অর্থ একদিকে যেমন প্রবাসী পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখে।
তিন দিনে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার তথ্য প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণত মাসের শুরুতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কেমন থাকে, তার ওপর পুরো মাসের সম্ভাব্য চিত্র সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে মাত্র কয়েক দিনের তথ্য দিয়ে পুরো মাসের রেমিট্যান্সের প্রবণতা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাসজুড়ে প্রবাসী আয় পাঠানোর গতি কেমন থাকে, সেটিই হবে মূল বিষয়।
রেমিট্যান্স বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে স্বস্তি তৈরি হতে পারে। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ থাকলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়া অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রবাসীদের অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের গুরুত্বও রয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো হলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় অর্থের প্রবাহ বাড়ে এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও এর যথাযথ হিসাব রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসীরাও নিরাপদ ও আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুবিধা পান।
রেমিট্যান্সের প্রবাহে গতি ধরে রাখতে প্রবাসীদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার উদ্যোগও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তিন দিনে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার ফলে চলতি মাসে প্রবাসী আয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন মাসের বাকি সময়ে এই প্রবাহ কতটা অব্যাহত থাকে এবং শেষ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই দেখার বিষয়।
