বিশ্বকাপ ঘিরে কার লাভ, কার ক্ষতি?

বিশ্বকাপ ফুটবল, অর্থনীতির মাঠে কে জিতল, কে হারল

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশাল এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল ও ১০৪টি ম্যাচ থাকায় টিকিট, সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, পর্যটন, পরিবহন, হোটেল এবং পণ্য বিক্রির মতো খাতে ব্যাপক বাণিজ্যিক কার্যক্রম তৈরি হয়েছে।

এই অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের একটি ফিফা। সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট ও আতিথেয়তা থেকে বিশ্বকাপ ঘিরে বিপুল রাজস্ব তৈরি হয়েছে। ২০২৬ আসরে ফিফার রাজস্ব প্রায় ৮.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হয়েছিল, যা আগের বিশ্বকাপের তুলনায় বড় বৃদ্ধি।

স্পনসর ও বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও বিশ্বকাপ একটি বিশাল বিপণন প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সামনে নিজেদের ব্র্যান্ড তুলে ধরার সুযোগ পেতে কোম্পানিগুলো বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। উত্তর আমেরিকার বাজার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও বেড়েছে।

আয়োজক শহরগুলোর ব্যবসাও বিশ্বকাপ থেকে স্বল্পমেয়াদে লাভবান হয়। দর্শকদের ভ্রমণ, হোটেলে থাকা, খাবার, স্থানীয় পরিবহন ও বিনোদনে ব্যয় বাড়ায় বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়। তবে বড় অবকাঠামো নির্মাণ ও আয়োজনের খরচ বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদে আয়োজক দেশ বা শহর কতটা লাভবান হয়, সেটি আলাদা হিসাব।

অন্যদিকে সাধারণ দর্শকের জন্য বিশ্বকাপের অর্থনীতি সবসময় এতটা ইতিবাচক নয়। টিকিটের পাশাপাশি বিমানভাড়া, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণ ব্যয় যোগ হওয়ায় সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচ দেখা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। প্রিমিয়াম আতিথেয়তা প্যাকেজও উচ্চ আয়ের দর্শকদের কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশও বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। ঢাকায় তৈরি স্পোর্টসওয়্যার বিশ্বকাপের দলের জার্সির সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ হয়েছে—যা দেখায়, আয়োজক না হয়েও একটি দেশ বৈশ্বিক ফুটবল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

অর্থনীতির মাঠে তাই একক কোনো চ্যাম্পিয়ন নেই। ফিফা, সম্প্রচারকারী, বড় স্পনসর ও বৈশ্বিক ক্রীড়া ব্যবসা সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের মধ্যে; আর আয়োজক শহর ও স্থানীয় ব্যবসার লাভ নির্ভর করে খরচের তুলনায় তারা কতটা দীর্ঘমেয়াদি সুফল তৈরি করতে পারে তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *