পাচার হওয়া অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের বিপরীতে প্রযোজ্য কর আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এ ধরনের অর্থের ওপর কর আদায় সরকারের রাজস্ব আহরণ ও অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। বিভিন্ন তদন্তে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ আইনগত প্রক্রিয়ায় ফ্রিজ বা জব্দ করা হয়ে থাকে। তবে এসব সম্পদের বিপরীতে প্রযোজ্য কর, জরিমানা বা অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন কমিটির মাধ্যমে ফ্রিজ করা হিসাবগুলোর তথ্য পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট করদাতাদের কর-সংক্রান্ত দায় নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের সুযোগগুলো চিহ্নিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
অর্থ পাচার ঠেকানো এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশে একাধিক সংস্থা কাজ করে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU), দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা রয়েছে।
তবে ফ্রিজ করা অর্থের মালিকানা, করযোগ্য আয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলে কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ জব্দের পাশাপাশি সরকারের প্রাপ্য কর আদায় ও রাজস্ব সুরক্ষার একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজ থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়তে পারে এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ের পথও সহজ হতে পারে।
