বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ১০০.১৯ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। এটি জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম। পরে দাম কিছুটা কমে আসে।
তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথগুলো নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে সরবরাহ-সংকটের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও প্রায় ৯৪.৫২ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তেলের ভবিষ্যৎ দাম নিয়ে তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি—দুই কারণই বর্তমানে তেলের দামে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের পরবর্তী গতিপথ এখন বিশেষভাবে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকেরা।
