বিস্তারিত প্রতিবেদন: ইউরেনিয়ামের আগমন ও পারমাণবিক শক্তিতে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে দেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের চালান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাতে সড়কপথে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করছে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই জ্বালানি নিয়ে যাওয়া হবে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায়।
এই পারমাণবিক জ্বালানির আগমনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী বা ‘নিউক্লিয়ার ক্লাব’-এর সদস্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমানে করে এই জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম পরিবহন ও ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর। ফলে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ রুটজুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে অভূতপূর্ব ও সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সড়কপথে পরিবহনের সময় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর বিশেষ দল একযোগে কাজ করছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই জাতীয় অর্থনীতি এবং বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথম ইউনিটের জন্য মোট দুটি রিঅ্যাক্টরে ১২০০ করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পারমাণবিক জ্বালানি আসার পর পর্যায়ক্রমে ফুয়েল লোডিং, ফিজিক্যাল স্টার্টআপ, শক্তি পরীক্ষা এবং জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শুরু হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়লা বা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ইউরেনিয়ামনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। এছাড়াও পারমাণবিক বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন নিঃসরণকারী হওয়ায় সবুজ পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। রূপপুরের এই ইউরেনিয়াম কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কাঁচামালই নয়, বরং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এক অনন্য বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি।
