ডিজেল থেকে বিদ্যুতে যাচ্ছে রেল!

ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ–জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগে গতি এসেছে। প্রায় এক দশক সমীক্ষা পর্যায়ে থাকার পর ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই করিডোরে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক রেলসেবা চালুর পথ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর অংশ হিসেবে ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা নির্মাণের পাশাপাশি পাঁচটি করে কোচ নিয়ে ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (EMU) কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মোট ৮০টি বৈদ্যুতিক কোচ যুক্ত হবে। ট্রেনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি পৃথক EMU মেরামত কারখানাও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (EIB) থেকে ২ হাজার ৮৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ৯৪২ কোটি টাকা সরকারের অর্থায়নে দেওয়ার কথা। বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থায় বর্তমান ডিজেল-ইলেকট্রিক ব্যবস্থার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩৫–৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। দ্রুত গতি বাড়ানো ও কমানোর সক্ষমতার কারণে ট্রেনের গড় গতিও ১৮–২০ শতাংশ বেশি হতে পারে বলে প্রকল্প নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা, সাবস্টেশন, পরিচালনাগত ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রেন থামলে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ডিজেলনির্ভরতা কমার কারণে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *