মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। ঘটনাটিকে সৌদি নেতৃত্ব ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে দেখছে এবং মক্কার নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বলে উল্লেখ করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত হওয়ার পর ধ্বংস করা হয়। সৌদি আরবের দাবি, এটি হুথিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে চালানো দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল।
এই ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কা, জেদ্দা ও তাইফও ছিল। মঙ্গলবার জারি করা সতর্কতাগুলো অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়।
সৌদি পক্ষ ঘটনাটিকে মক্কার পবিত্রতা ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখলেও, হুথি পক্ষ মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সৌদি দাবিকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না। মক্কা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মানুষ সেখানে সমবেত হন।
সৌদি আরবের এই ঘটনার বর্ণনা এবং হুথিদের অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
