প্রণোদনার ৪১ হাজার কোটি টাকা জোগান দেবে ১৭ ব্যাংক
দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরানো, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন প্যাকেজের ৪১ হাজার কোটি টাকা জোগানে যুক্ত হয়েছে মোট ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০টি ব্যাংক চুক্তি করায় এই অর্থায়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যকে উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকার খাতে সাশ্রয়ী ঋণে রূপান্তর করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে।
৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরায় চালুর সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমে বরাদ্দ রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পল্লি অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা CMSME খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়নে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র বা কৃষি হাব গঠনের জন্য রাখা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। একই পরিমাণ অর্থ, অর্থাৎ আরও ৩ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতের পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে চুক্তিবদ্ধ ১০টি ব্যাংক হলো—অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক। এর আগে প্রথম ধাপে সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তিতে যুক্ত হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ বলেছেন, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য সঠিকভাবে উৎপাদনশীল খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিচালিত করা গেলে তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে।
