২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা। সেদিন ১৯ জন ছিনতাইকারী চারটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দিকে, একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনের দিকে ব্যবহৃত হয় এবং চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় মোট ২,৯৯৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১৯ জন ছিনতাইকারীও ছিলেন।
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত বিমান চলাচলে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে। দেশের আকাশসীমায় সাময়িকভাবে সব বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দর নিরাপত্তা, যাত্রী তল্লাশি ও ককপিট সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।
৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতেও বড় পরিবর্তন আনে। আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি দীর্ঘ সময়ের জন্য নতুন পথে এগিয়ে যায়।
“নিজের পাতা ফাঁদে আটকে যাওয়া” কথাটি মূলত এই অর্থে ব্যবহৃত হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়হীনতা ও পূর্ববর্তী সতর্কতাগুলো যথেষ্ট কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়নি। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি ব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না—এটি ছিল গোয়েন্দা তথ্য, বিমান নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক দুর্বলতার সমন্বিত ফল।
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও ওই হামলার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিমান চলাচলের নিয়মে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
