সবুজ ফসলের মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক ঢিবি। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ কোনো উঁচু জমি মনে হলেও স্থানীয় মানুষের কাছে এটি বহুদিনের এক রহস্যের নাম—‘জামুর ঢিবি’। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের আদম জামুর গ্রামের এই স্থানটি স্থানীয়ভাবে ‘ধনপোতা ঢিবি’ নামেও পরিচিত।
স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে নানা ধারণা। কারও মতে, ঢিবির নিচে চাপা পড়ে আছে পুরোনো কোনো রাজবাড়ি। কেউ মনে করেন, এখানে একসময় ছিল ধর্মীয় স্থাপনা। আবার কারও ধারণা, মাটির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাচীন কোনো জনপদের নিদর্শন। তবে এসব ধারণার সত্যতা এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।
ঢিবিটির উচ্চতা বর্তমানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ ফুট এবং আয়তন প্রায় দুই থেকে আড়াই একর বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। সময়ের সঙ্গে এটি ক্ষয়ে নিচু হয়ে আসছে। ঢিবির বিভিন্ন অংশের মাটি কাটার ফলে পুরোনো ইট ও মাটির তৈজসপত্রের টুকরাও চোখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে ঢিবি থেকে পাওয়া পুরোনো ইট বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
জামুর ঢিবির অবস্থানও ঐতিহাসিকভাবে আগ্রহ তৈরি করে। বগুড়া অঞ্চল প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে ঢিবিটিতে বৈজ্ঞানিক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান হলে এর প্রকৃত বয়স ও পরিচয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষকেরা মনে করছেন।
ইতিমধ্যে ঢিবিটি ২০১৫–১৬ সালের দিকে সরকারি সংরক্ষণের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কর্মকর্তার বক্তব্যে জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, জামুর ঢিবির খননের বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
তাই রাজবাড়ি, ধর্মীয় স্থাপনা নাকি কোনো প্রাচীন জনপদের চিহ্ন—জামুর ঢিবির আসল রহস্য উন্মোচনের অপেক্ষা এখন প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের।
