মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেমে এলো ৩৭ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদনের হার ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (WSJ) নতুন এক জরিপ অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য তাদের জরিপে এটি ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে কম অনুমোদনের হার। জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তাদের এই তুলনা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টদের জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৯০ সাল থেকে পরিচালিত জার্নালের জরিপের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ফলে ‘৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন’ বলতে এই নির্দিষ্ট WSJ জরিপ-ধারার ঐতিহাসিক তুলনাকেই বোঝানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক অন্যান্য জরিপেও ট্রাম্পের অনুমোদনের হার কম থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। Reuters/Ipsos-এর ১৭–২০ সেপ্টেম্বরের জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন ৩২ শতাংশে নেমে আসে, যা ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন। ১ হাজার ২৭৭ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ৭৩ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন।

Reuters/Ipsos-এর জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষও উঠে এসেছে। মাত্র ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার অনুমোদন দিয়েছেন। একই জরিপে ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপের প্রতি ৩৪ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে CNN/SSRS-এর সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। Forbes-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ওই জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কাজের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। জরিপটি ১৬–১৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ২০৬ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয় এবং এর মার্জিন অব এরর ৩.৮ শতাংশ পয়েন্ট।

Pew Research Center-এর আগস্টের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের অনুমোদনকে ঐতিহাসিকভাবে কম বলা হয়েছে। জুলাইয়ের ৬–১২ তারিখে পরিচালিত তাদের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৩৪ শতাংশ, যা তাঁর প্রথম মেয়াদের একই সময়ের ৪০ শতাংশের তুলনায় কম। তবে বিভিন্ন জরিপে পদ্ধতি, সময় ও নমুনার পার্থক্যের কারণে অনুমোদনের হার এক নয়।

সাম্প্রতিক জরিপগুলো মূলত ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থনের বিভিন্ন পরিমাপ তুলে ধরছে। WSJ-এর ৩৭ শতাংশ এবং Reuters/Ipsos-এর ৩২ শতাংশ—দুটি ভিন্ন জরিপের ফল; তাই এগুলোকে একই মাপকাঠির সরাসরি তুলনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *