যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই ওয়াশিংটনের ওপর আস্থার সংকটের কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগের কয়েক দফা আলোচনার পর হামলা ও নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের আস্থা আর নেই।
পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য আসে ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাবের পর। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে ওই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে থাকা আনুমানিক ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে, বিশেষ করে লেবানন ও ইয়েমেনকে অন্তর্ভুক্ত করে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থার কথাও প্রস্তাবে রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা বলেছে।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন লাগতে পারে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার এবং সপ্তম দিনে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৬ সেপ্টেম্বর ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতা করছে। তাঁর মতে, বর্তমান আলোচনার ভিত্তি জুনে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা, যা পরে কার্যকর থাকেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই কাঠামোর বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে আস্থার সংকটের কথা বললেও পেজেশকিয়ান আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি বলেছেন, আলোচনা সফল হলে যুদ্ধের অবসান এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সমঝোতা না হওয়ায় কাতার ও পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ না করায় পরবর্তী আলোচনার পথ কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিক।
