সৌদি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি হুথিদের

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাইজ প্রদেশের আকাশে সৌদি পরিচালিত একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রোনটিকে তুরস্কে তৈরি Bayraktar Akıncı হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হুথিদের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইয়েমেনে কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে কম থাকা বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলের জন্য নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে তাইজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের অঞ্চলকে ঘিরে লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়েছে।

হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘাতেও তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর মধ্যে রিয়াদ, জিজান, নাজরান ও আবহা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনার কথাও এসেছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীও ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

সৌদি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি তাইজকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কৌশলগত গুরুত্বও সামনে আনছে। তাইজ ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ শুধু স্থানীয় সামরিক অবস্থানের জন্য নয়, বরং দেশের পশ্চিমাঞ্চল, লোহিত সাগরের উপকূল এবং দক্ষিণের দিকে যাতায়াতের পথের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে এই অঞ্চলকে ঘিরে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা দেখা গেছে।

এদিকে সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও হুথিদের হামলার ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের জিজান ও নাজরান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়েও হামলার দাবি করেছে হুথিরা।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দাব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়।

তাই সৌদি ড্রোন ভূপাতিত করার হুথিদের দাবি শুধু একটি সামরিক ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইয়েমেনের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতিরও একটি অংশ। তবে ড্রোনটি সত্যিই ভূপাতিত হয়েছে কি না, কীভাবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ে আরও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইয়েমেনে বিমান হামলার মাত্রা বাড়লে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে হুথিদের সর্বশেষ দাবির পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *