ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা বৈঠকে বসেন। শি জিনপিংয়ের ভারত সফরটি সাত বছরের মধ্যে দেশটিতে তাঁর প্রথম সফর।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চীনা পক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হিসেবে দেখার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের সুযোগ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। ভারতও পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সীমান্ত ইস্যুও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। দুই নেতা সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতীয় পক্ষ বিশেষভাবে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাজারে প্রবেশাধিকার, সরবরাহব্যবস্থা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি বিমান যোগাযোগ, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং কিছু যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। তবে সীমান্ত বিরোধসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
সাম্প্রতিক বৈঠককে তাই দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সতর্ক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
