দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী। সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার মাধ্যমে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং নগরীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোন কোন সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে এবং হকারদের জন্য কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফুটপাত ও সড়কের একাংশে অস্থায়ী দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি সড়কের অংশ দখল হয়ে থাকলে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নগর ব্যবস্থাপনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
ফুটপাত দখলমুক্ত হলে কী সুবিধা হবে?
ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত। কিন্তু ফুটপাতের বড় অংশ দোকানপাট বা পণ্য সাজিয়ে রাখার কাজে ব্যবহৃত হলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচল বিশেষভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। অনেককে বাধ্য হয়ে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত নিয়মিত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হলে পথচারীদের চলাচল সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সড়কের ব্যবহার আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং যানবাহন ও পথচারীদের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হবে না। নিয়মিত তদারকি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
হকার ব্যবস্থাপনায় নীতিমালার গুরুত্ব
হকারদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাঁদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের দৈনন্দিন আয়-রোজগার জড়িত। বিকল্প কর্মসংস্থান বা ব্যবসার সুযোগ ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে সরকার ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ঢাকা শহরের হকার পুনর্বাসন নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নীতিমালায় হকারদের নিবন্ধন, নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা এবং হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন মার্কেট চালুর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি হকারদের জীবিকার সুযোগ বজায় রাখাই এ ধরনের ব্যবস্থার অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।
বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজধানীতে এর আগেও বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও অনেক এলাকায় হকারদের ফিরে আসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা নগর কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান ও সময় অনুযায়ী হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া, নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি হকার সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে উদ্যোগটির সাফল্য নির্ভর করবে পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং হকারদের জীবিকা বিবেচনায় রেখে টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর।
