বাবার মতোই আগ্রাসী! শেবাগপুত্রের ব্যাটে ১৭৩ রানের তাণ্ডব

ভারতের সাবেক বিধ্বংসী ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগের ব্যাটিংয়ের আগ্রাসী ধারা যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন তাঁর ছেলে আর্যবীর শেবাগ। যুব ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে আলোচনায় উঠে এসেছেন দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক। বিনু মানকড় ট্রফিতে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে মাত্র ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভারতের বিজিয়ানগরমের পিভিজি রাজু এসিএ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপে রাখেন আর্যবীর। উদ্বোধনী জুটিতে অর্ণব বুগ্গার সঙ্গে ৯৮ রান যোগ করেন তিনি। অর্ণব ৩৯ বলে ৪৭ রান করে ফিরলেও থামেনি আর্যবীরের ব্যাট।

দলের একের পর এক উইকেট পড়তে থাকলেও অন্য প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন দিল্লির অধিনায়ক। তৃতীয় উইকেটে অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে ৪৮ রান যোগ করেন তিনি। অভিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। এরপর পঞ্চম উইকেটে শান্তনু যাদবের সঙ্গে গড়েন ৮৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শান্তনু করেন অপরাজিত ২৭ রান।

আর্যবীরের ইনিংসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তাঁর বাউন্ডারি মারার ক্ষমতা। ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কায় বাউন্ডারি থেকেই আসে ১২৪ রান। অর্থাৎ তাঁর মোট রানের বড় অংশই এসেছে চার-ছক্কা থেকে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটে টিকে থেকে ইনিংসকে বড় করার দক্ষতাও দেখিয়েছেন তিনি। ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। তখন তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান।

তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে দিল্লি। চণ্ডীগড়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯০ রান। তবে আর্যবীরের ব্যক্তিগত সাফল্য শেষ পর্যন্ত দলকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। জবাবে চণ্ডীগড়ের ওপেনার রূপেশ যাদবের ১৬৭ রান এবং মীত দাহিয়ার ৬৩ রানের ইনিংসে ভর করে ৪১.৩ ওভারেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় দলটি। ফলে পাঁচ উইকেটের জয় পায় চণ্ডীগড়।

দলের হার সত্ত্বেও আর্যবীরের এই ইনিংস টুর্নামেন্টে তাঁর সামর্থ্যের বড় প্রমাণ। ভারতের সাবেক তারকা ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগের ছেলে হিসেবে তাঁকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ বরাবরই রয়েছে। তবে নিজের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে আলাদা পরিচয় গড়ে তোলাই এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

যুব ক্রিকেটের এই পারফরম্যান্স আর্যবীরের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে নিঃসন্দেহে। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। আপাতত ১৯ চার ও ৮ ছক্কায় সাজানো ১৭৩ রানের ইনিংস দিয়েই ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন শেবাগপুত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *