আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা (Tehran Mosalla) প্রার্থনা কমপ্লেক্সে তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েক দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানের প্রথম ধাপ তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ধর্মীয় নগরী কুমে নেওয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়ও প্রতীকী শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি রয়েছে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনিকে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শেষবিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাগম হতে পারে। তাই রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কিছু সরকারি দপ্তরে বিশেষ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছে। ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
খামেনির মৃত্যু-পরবর্তী এই দীর্ঘ বিলম্বিত রাষ্ট্রীয় শেষবিদায় অনুষ্ঠানকে ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রীয় অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
