সিআইএর সতর্কতা শোনেননি ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর পরামর্শে যুদ্ধে জড়ান
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের ওপর হামলা বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ওভাল অফিসে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় এসব ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে এবং তাতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
এর বিপরীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ইরান তখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু দ্রুত অভিযান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদী মূল্যায়নও তুলে ধরেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেন। শুরুতে দ্রুত সাফল্যের প্রত্যাশা থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে প্রাণহানি, মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মতো বিষয় সামনে এসেছে।
বর্তমানে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের দিকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের প্রাথমিক যুদ্ধকৌশল কতটা সফল হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফলাফল কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
