মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ, আইন কী বলে?

মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ, এক শতাব্দীতে এমন নজির নেই, আইন কী বলে

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ১ ডলারের মুদ্রায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। এর ফলে প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ দেশটির মুদ্রায় দেখা গেল। ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল বিশেষ এই মুদ্রা উন্মোচন করে।

মুদ্রাটির এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রয়েছে। পাশাপাশি এতে ‘লিবার্টি’ ও ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ লেখা হয়েছে। মুদ্রাটির রং সোনালি হলেও এটি সোনার তৈরি নয়; এতে ৮৮ শতাংশের বেশি তামার পাশাপাশি দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল রয়েছে। টাঁকশালের ওয়েবসাইটে বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্ধারিত মুদ্রাগুলো বিক্রি হয়ে যায়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে—জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি মার্কিন মুদ্রায় কীভাবে এল? যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনের ৩১ ইউএসসি §৫১১৪ অনুযায়ী, মার্কিন কাগুজে মুদ্রা ও সরকারি সিকিউরিটিতে কেবল মৃত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার করা যায়

কিন্তু কয়েনের ক্ষেত্রে আইনি বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। ট্রাম্পের নতুন মুদ্রায় তাঁর ছবি রয়েছে অবভার্স বা সামনের অংশে। বিদ্যমান আইনে মুদ্রার রিভার্স বা পেছনের অংশে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, কিন্তু এই বিশেষ নকশার সামনের অংশ নিয়ে একই ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।

এর আগে ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ৫০ সেন্টের একটি মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের মুদ্রাটি পুরোপুরি নজিরবিহীন নয়, তবে প্রায় ১০০ বছর পর এমন ঘটনা ঘটায় এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

অন্যদিকে কাগুজে নোটে ট্রাম্পের ছবি দেওয়ার বিষয়টি আলাদা। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫০ ডলারের নোটে তাঁর প্রতিকৃতি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, বিদ্যমান ফেডারেল আইনে জীবিত ব্যক্তির ছবি–সংবলিত মার্কিন কাগুজে মুদ্রা ছাপার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসে একটি বিলও উত্থাপিত হয়েছে।

অর্থাৎ, ট্রাম্পের বিশেষ ১ ডলারের কয়েন এবং ট্রাম্পের ছবি থাকা সম্ভাব্য কাগুজে নোট—দুটিকে একই আইনি কাঠামোয় দেখা যাবে না। কয়েনের নকশার ক্ষেত্রে যে আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে, কাগুজে মুদ্রার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ বর্তমানে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *