পোশাক ধ্বংস বন্ধ, বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ?

ইউরোপে অবিক্রীত পোশাক ধ্বংসে নিষেধাজ্ঞা, বাংলাদেশের সামনে সংকট নাকি সম্ভাবনা

অবিক্রীত পোশাক ও জুতা ধ্বংসের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯ জুলাই ২০২৬ থেকে ইইউর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অবিক্রীত পোশাক, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য ও জুতা ধ্বংস নিষিদ্ধ হয়েছে। এই নিয়ম Ecodesign for Sustainable Products Regulation-এর আওতায় কার্যকর হয়েছে। মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একই নিষেধাজ্ঞা ২০৩০ সাল থেকে প্রযোজ্য হবে।

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার হিসাবে, ইউরোপের বাজারে আসা মোট টেক্সটাইলের আনুমানিক ৪–৯ শতাংশ ব্যবহারের আগেই ধ্বংস হয়ে যায়। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ৯৪ হাজার টন। নতুন নীতির লক্ষ্য হলো এই অপচয় কমিয়ে পোশাক পুনর্বিক্রি, দান, পুনর্ব্যবহার ও সংস্কারের মতো বিকল্পকে উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ইউরোপের বাজারের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো যদি অতিরিক্ত উৎপাদন কমায় এবং ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়, তাহলে কম অর্ডার বা উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তনের চাপ বাংলাদেশের কারখানাগুলোতেও আসতে পারে।

অন্যদিকে, টেকসই উৎপাদন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ, দীর্ঘস্থায়ী পোশাক এবং সার্কুলার ফ্যাশনের চাহিদা বাড়লে বাংলাদেশ নতুন ব্যবসার সুযোগ পেতে পারে। ইউরোপ ইতোমধ্যে পুনর্ব্যবহার ও সার্কুলার অর্থনীতির দিকে শিল্পকে এগিয়ে নিচ্ছে।

তাই নিষেধাজ্ঞাটিকে শুধু সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পোশাক খাত যদি উৎপাদন দক্ষতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, তাহলে ইউরোপের পরিবর্তিত বাজারব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *