সাত মাসেও এলপিজি আমদানি করতে পারেনি বিপিসি
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়ে দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সাত মাস ধরে আমদানির উদ্যোগ নিয়েও এখনো এলপিজি দেশে আনতে পারেনি—এমন পরিস্থিতি সরকারি পর্যায়ের এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে এলপিজির বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এলপিজি সরবরাহ করে, তবে তাদের উৎপাদন ও আমদানি সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকেও এলপিজি উৎপাদিত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ইস্টার্ন রিফাইনারি বিপিসিকে ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি সরবরাহ করেছিল।
সরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কিংবা আমদানি ব্যাহত হলে সরকারি মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলপিজির বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের এলপিজি আমদানি চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট থাকলেও মাসভেদে আমদানির পরিমাণে বড় ওঠানামা ছিল। ফলে পর্যাপ্ত সামগ্রিক আমদানি থাকা সত্ত্বেও কিছু সময়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল।
এদিকে ২০২৬ সালের শুরুতেও এলপিজি আমদানিকে সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধা বাড়িয়েছে। জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিট সুবিধার কথা জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানিতে একক ঋণগ্রহীতার সীমাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
তবে সরকারি পর্যায়ে সাত মাসেও আমদানি সম্পন্ন না হওয়া প্রশ্ন তুলছে—পরিকল্পনা, দরপত্র, অর্থায়ন কিংবা সরবরাহকারী নির্বাচনের কোন পর্যায়ে বিলম্ব হচ্ছে। একই সময়ে আগস্টে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এ অবস্থায় দ্রুত আমদানি সম্পন্ন করা গেলে সরকারি মজুত ও বাজারের সরবরাহব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে সরকারি সংস্থার সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
