বিদ্যুৎ সংকটে বাজারে প্রভাব, নিত্যপণ্যের দামে নেই স্বস্তি

বাজারে মাছ–মুরগি ও ডিমের দাম কমেনি, লোডশেডিংয়ে বেচাকেনায় প্রভাব

রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছু সবজির দাম কমলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে তেমন স্বস্তি ফেরেনি। সাম্প্রতিক বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা এবং ফার্মের ডিমের ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই–তিন সপ্তাহ ধরে এসব পণ্যের দাম মোটামুটি একই পর্যায়ে রয়েছে।

মাছের বাজারেও দাম কমার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা যায়নি। রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের দাম বাজারভেদে বাড়তি রয়েছে। কিছু মাছের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। সাম্প্রতিক বাজারে এটি কেজি ৩২০–৩৩০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগি ২৯০–৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

দাম স্থিতিশীল না হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের বাজার খরচ কমছে না। বিশেষ করে মাছ ও ডিমের মতো নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকায় সীমিত আয়ের পরিবারের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বরেও রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০–২০০ টাকা এবং ডিম ১৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের সমস্যা। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মতো কিছু বাজারে দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাজার অন্ধকার ও গরম হয়ে পড়ছে। এতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক বেচাকেনাও ব্যাহত হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু দোকানের আলো বা ক্রেতার উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। মাছ বিক্রেতাদের জন্য বিদ্যুৎ আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চৌবাচ্চায় থাকা জীবন্ত মাছের পানিতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মাছ মারা যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং বিক্রেতাদের লোকসান গুনতে হয়।

সব মিলিয়ে, কিছু সবজির দাম কমলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে স্বস্তি ফেরেনি। তার ওপর লোডশেডিং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ক্রেতাদের জন্য দাম কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *