ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আদায়ের চিন্তা করা হচ্ছে, যার পরিমাণ ৫০০ টাকা হতে পারে। বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর নতুন আর্থিক দায় তৈরি হবে।
বর্তমানে ভ্যাট ব্যবস্থায় ব্যবসার ধরন, বার্ষিক টার্নওভার ও নিবন্ধনের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হয়। নতুন এই চিন্তার মূল লক্ষ্য হতে পারে ভ্যাটের আওতা আরও বিস্তৃত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ব্যবসাগুলোকেও রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভিত্তিক নিবন্ধনও সহজ হতে পারে।
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে নতুন কোনো ভ্যাট বা নির্ধারিত অর্থ আরোপের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক ব্যবসার আকার তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ প্রদান তাদের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ভ্যাট সংগ্রহের প্রক্রিয়া কতটা সহজ ও স্বচ্ছ হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, চূড়ান্ত আইন বা বিধিমালা প্রকাশের পরই জানা যাবে—কারা এই অর্থ দেবেন, কীভাবে আদায় হবে এবং এটি বাধ্যতামূলক হবে কি না।
ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসার সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে নিয়মটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, সেটিই হবে মূল বিষয়।
