জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে; অন্যথায় তাঁর সামনে ইসলামিক রিপাবলিককে দ্রুত “annihilate” করার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং দেশটির অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে ভাষণে সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি চুক্তিতে আসে, তাহলে দেশটির পুনর্গঠনের সুযোগ থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, তাঁর প্রশাসন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের বাইরে ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা শেষ পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না—এ অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে ইরানও জাতিসংঘের অধিবেশনকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ হিসেবে দেখছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাতিসংঘের এই আয়োজনকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফেরার একটি “golden opportunity” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ ও অবরোধ সংক্রান্ত কিছু শর্ত শিথিল করে।
ফলে জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ সমঝোতার সম্ভাবনা—দুই ধরনের বার্তাই উঠে এসেছে।
