আউটসোর্সিংয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সেবা নেওয়া যাবে না

সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করেছে সরকার। সরকারি কাজে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখা গত ২২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নতুন করে আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নিতে পারবে। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অর্থাৎ, নতুন আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতায় কর্মী বা সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। তবে আগে থেকেই কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় যে সেবা নেওয়া হচ্ছে, সেই চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত আগের ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

সংশোধিত নীতিমালায় ‘সেবা সরবরাহকারী’-এর সংজ্ঞাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আউটসোর্সিংয়ের নির্ধারিত সেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সেবা সরবরাহকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির বিষয়টিও সংজ্ঞায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

সেবাকর্মী পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেবাকর্মী পরিবর্তন করতে পারবে না। তবে কর্মীর দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ বা নির্দিষ্ট কোনো কারণে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একই সঙ্গে যে নির্দিষ্ট কাজের জন্য চুক্তি করা হবে, সেবাকর্মীকে সেই কাজের বাইরে অন্য কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।

সেবাকর্মীদের ছুটি, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য চাকরিসংক্রান্ত বিষয় চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে কর্মীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ব্যবস্থাপনার মতো প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবে।

পারিশ্রমিক পরিশোধের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত সেবার বিপরীতে সেবাকর্মীর নিজ নামে থাকা ব্যাংক হিসাব অথবা ব্যক্তিগত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে সরাসরি পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি কাজে গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, ব্যয় কমানো এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *