দেশে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
ছয় দিনে এসেছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর—এই ছয় দিনে দেশে এসেছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। মাসের বাকি দিনগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কেমন থাকে, তার ওপর নির্ভর করবে পুরো অক্টোবরের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ।
প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা তাঁদের উপার্জনের একটি অংশ দেশে পাঠান, যা তাঁদের পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, সঞ্চয় ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করে।
অর্থবছরের শুরু থেকেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি
শুধু অক্টোবরেই নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।
আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশে।
অর্থনীতির জন্য এই প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়লে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ডলারের বাজারে সরবরাহের চাপ সামলাতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে না; রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয়, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনও গুরুত্বপূর্ণ।
বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর গুরুত্ব
প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে আসে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠালে লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং দেশের আনুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে তা অন্তর্ভুক্ত হয়।
এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা দীর্ঘ মেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে রেমিট্যান্সে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং অর্থবছরের শুরু থেকে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ এবং পরবর্তী মাসগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি কতটা বজায় থাকে, তা দেখার বিষয়।
