বলিউডে দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় থাকা অভিনেতা ইমরান খানের প্রত্যাবর্তন এবার নতুন অনিশ্চয়তার মুখে। ভারত ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ার পর তাঁর নতুন সিনেমা ‘আধুরে হাম আধুরে তুম’-এর মুক্তি ও প্রচারণা পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনি জটিলতার কারণে সিনেমাটির প্রচারণা আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে নির্মাতা বা নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৮ ডিসেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল সিনেমাটির। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ছবিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রচারণার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হতে পারে। খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মিড-ডে; পরে আউটলুক ইন্ডিয়াসহ অন্য সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি উঠে আসে।
কেন ভারত ছাড়ার নির্দেশ পেলেন ইমরান?
ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাঁর কাছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া ইমরানের ওসিআই মর্যাদা ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। ১৫ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বিদেশি নিবন্ধনবিষয়ক আঞ্চলিক দপ্তর (এফআরআরও) তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন ও বিদেশিসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে নির্দেশ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ইমরান ইতিমধ্যে ভারত ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই নির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিও তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১১ বছর পর অভিনয়ে ফেরার অপেক্ষা
২০১৫ সালে ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমায় অভিনয়ের পর দীর্ঘ সময় বড় পর্দায় প্রধান চরিত্রে দেখা যায়নি ইমরানকে। ‘জানে তু… ইয়া জানে না’, ‘ব্রেক কে বাদ’ ও ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে একসময় তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে তাই ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট।
‘আধুরে হাম আধুরে তুম’ পরিচালনা করেছেন দানিশ আসলাম। সিনেমাটিতে ইমরানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ভূমি পেডনেকর ও গুরফতেহ পিরজাদা। এটি একটি পরিণত বয়সের প্রেম ও সম্পর্কনির্ভর রোমান্টিক কমেডি। সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে এবং এটি মুক্তির আগে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল।
ইমরানের এই সিনেমায় প্রত্যাবর্তন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর এটি তাঁর পূর্ণাঙ্গ অভিনয়ে ফেরার অন্যতম বড় প্রকল্প। কিন্তু আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ছবিটির বিপণন, প্রচারণা এবং নির্ধারিত সময়ে মুক্তির পরিকল্পনা নতুন করে বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
মুক্তি কি সত্যিই পিছিয়ে যাচ্ছে?
এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সিনেমাটি নির্ধারিত ১৮ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে কি না। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রচারণার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। তবে ছবিটির নির্মাতা, প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট পক্ষ কিংবা নেটফ্লিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি।
ইমরানের আইনি লড়াইয়ের অগ্রগতি, ভারতে তাঁর অবস্থানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং সিনেমাটির প্রচারণার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পরিকল্পনা থাকায় শুটিংয়ের জন্য ভারতে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন না থাকলেও প্রচারণা ও অন্যান্য পেশাগত কার্যক্রমে পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ইমরান খানের কামব্যাক সিনেমাকে ঘিরে এখন দুটি বিষয় সমান গুরুত্ব পাচ্ছে—একদিকে তাঁর আইনি লড়াই, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিনেমার মুক্তি। শেষ পর্যন্ত ‘আধুরে হাম আধুরে তুম’ নির্ধারিত সময়ে দর্শকদের সামনে আসবে, নাকি আইনি জটিলতার কারণে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে, তা জানতে এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
