মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখিয়ে নিলেন আলফাদজো সিসে। তরুণ এই ইতালিয়ান ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে উয়েফা ইউরোপা লিগে অস্ট্রিয়ান ক্লাব আরবি সালজবুর্গকে তাদের মাঠে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এসি মিলান। ২০২৬-২৭ মৌসুমের ইউরোপা লিগে এটি ইতালিয়ান ক্লাবটির প্রথম জয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনেও স্মরণীয় হয়ে থাকল সিসের রাত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অস্ট্রিয়ার রেড বুল অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিলান। ম্যাচের ১৫ মিনিটে ওমারি হাচিনসনের ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সিসে। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোলেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয় সফরকারীরা।
এরপর ৩২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সিসে। দাভিদে বার্তেসাগির তৈরি করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে মিলানকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন এই তরুণ তারকা।
বিরতির পরও থামেনি সিসের গোল উৎসব। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র চার মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ম্যাচের ৪৯ মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিওর পাস থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ৪৯ মিনিটের মধ্যেই তিনটি গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কার্যত অচল করে দেন এই ফরোয়ার্ড।
সিসের হ্যাটট্রিকের পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় মিলান। ম্যাচের ৭২ মিনিটে গনসালো রামোস দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। আরদন জাশারির চাপের মুখে সালজবুর্গের মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালের দেখা পান এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইতালিয়ান ক্লাবটি।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে একটি লাল কার্ডের কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয় মিলানকে। ৮৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে গিয়ে ফিলিপ্পো তেরাচ্চিয়ানো সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মিলানকে। তা সত্ত্বেও জয় ধরে রাখতে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের।
রেকর্ডের পাতায় সিসে
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়েছেন সিসে। ১৯ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে তিনি বড় ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ ইতালিয়ান ফুটবলার হয়েছেন। তাঁর এই কীর্তি তরুণ ফরোয়ার্ডের সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এ ছাড়া ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এসি মিলানের হয়ে এটি ২৪ বছরের মধ্যে প্রথম হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০০২ সালে মিলানের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ফিলিপ্পো ইনজাঘি ইউরোপীয় ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর সিসের এমন পারফরম্যান্স ক্লাবটির সমর্থকদের জন্যও বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ।
ম্যাচ শেষে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়কেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সিসে। তাঁর মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ম্যাচ জেতা এবং দল হিসেবে ভালো পারফরম্যান্স করা। কোচ রুবেন আমোরিমও তরুণ এই ফরোয়ার্ডের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, সিসে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই খেলার সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে উন্নতির জন্য তাঁর সামনে এখনো অনেক জায়গা রয়েছে।
ইউরোপা লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা
প্রথম ম্যাচে বেনফিকার কাছে ২-০ গোলে হেরে ইউরোপা লিগ অভিযান শুরু করেছিল মিলান। ফলে সালজবুর্গের বিপক্ষে জয়টি ছিল তাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। চার গোলের জয় এবং কোনো গোল হজম না করার মাধ্যমে দলটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে।
অন্যদিকে, এই ম্যাচে সিসের পারফরম্যান্স মিলানের আক্রমণভাগে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। তরুণ বয়সেই বড় মঞ্চে চাপ সামলে গোল করার ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
সব মিলিয়ে, সালজবুর্গের বিপক্ষে মিলানের ৪-০ গোলের জয় যেমন ইউরোপা লিগে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে, তেমনি সিসের হ্যাটট্রিক তাঁকে ইউরোপীয় ফুটবলের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমন ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়বে, সেটিই স্বাভাবিক।
