নেপালে মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক
নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার হিমালয়সংলগ্ন নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় আকস্মিকভাবে বন্যার পানি ও কাদার স্রোত নেমে এসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে ১৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭৯ জন পর্যটকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; তাঁদের মধ্যে ৪০০-এর বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকও রয়েছেন।
দুর্যোগের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাসুয়া, নুয়াকোটসহ কয়েকটি পাহাড়ি জেলা। বন্যার স্রোতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে একটি বরফ-পাথরের ধস বা আইস-রক অ্যাভালাঞ্চের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে আকস্মিকভাবে ভয়াবহ স্রোত সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে ভুটেকোশি নদী ও আশপাশের উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগব্যবস্থা, দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াই এখন নেপাল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
