খেলাপি ঋণ কমানোসহ ৫ সূচকে মূল্যায়ন হবে এমডি-সিইওদের

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বাড়াতে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে নতুন ‘Key Performance Indicators (KPI) Framework’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা এ নীতিমালা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় এমডি ও সিইওদের কর্মদক্ষতা ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য, সম্পদের মান, মুনাফা, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকসেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো মূল্যায়নের আওতায় থাকবে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং শ্রেণিকৃত ও অবলোপন করা ঋণ আদায়ের অগ্রগতিও এতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদকে প্রতিটি সূচকের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এসব লক্ষ্য নির্ধারণের সময় ব্যাংকের আগের প্রান্তিকের পারফরম্যান্স, ঝুঁকির ধরন, ব্যবসায়িক কৌশল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় শেষে পরিচালনা পর্ষদ এমডি বা সিইওর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেবে।

চূড়ান্ত স্কোর ৭৫ বা তার বেশি হলে ‘Above Average’, ৬৫ থেকে ৭৫-এর কম হলে ‘Average’ এবং ৬৫-এর নিচে হলে ‘Below Average’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই স্কোর এমডি বা সিইওর পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বাড়ানো এবং বেতন-ভাতা বা প্রণোদনা নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান এমডি ও সিইওদের জন্য প্রথম মূল্যায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনায় শুধু মুনাফা নয়, বরং ঋণের মান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাকেও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *