নতুন জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার মূল বেতনের অনুপাতে কমানো হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশ পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বর্তমান ২০১৫ সালের পে-স্কেলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায়, শতাংশ কমলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বাড়ি ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬–২০তম গ্রেডের জন্য বাড়ি ভাড়া হবে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০–১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫–৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১–৪র্থ গ্রেডে ৪০ শতাংশ। অন্যান্য বড় শহর ও সাভারে এসব হার যথাক্রমে ৫০, ৪০, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় হার হবে ৪৫, ৩৫, ৩০ ও ২৫ শতাংশ।
নতুন পে-স্কেলে শুধু বাড়ি ভাতাই নয়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০তম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থাকলেও উচ্চতর গ্রেডে তা ধাপে ধাপে কমে ২য় গ্রেডে ২.৭৫ শতাংশ হবে।
নতুন কাঠামোর মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন হারে কার্যকর হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৮।
অর্থাৎ, বাড়ি ভাতার শতাংশ কমলেও নতুন মূল বেতন বড় অঙ্কে বাড়ার কারণে কর্মীদের হাতে পাওয়া প্রকৃত বাড়ি ভাতা আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে শুধু শতাংশের পরিবর্তন দিয়ে মোট আর্থিক সুবিধা কমেছে কি না, তা নির্ধারণ করা যাবে না।
