পর্তুগালের জাতীয় ফুটবল দলের শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তির ঝুঁকিতে রয়েছেন দেশটির তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যথাযথ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করলে একজন খেলোয়াড়কে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার বিধানও রয়েছে। তবে রোনালদোর বিরুদ্ধে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
কেন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন রোনালদো?
ঘটনার সূত্রপাত নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ম্যাচটিতে পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে খেলার সুযোগ পাননি রোনালদো। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখা হবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অসন্তোষ আরও বাড়ে।
৩০ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে পর্তুগালের অনুশীলন শিবির ছেড়ে চলে যান ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। তাঁর এই সিদ্ধান্তে দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুস এবং ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে রোনালদো শেষ পর্যন্ত শিবির ছাড়েন।
কী শাস্তি হতে পারে?
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধিতে জাতীয় দলে নিয়মিত ডাক পাওয়া কোনো খেলোয়াড় যথাযথ কারণ ছাড়া ক্যাম্প, অনুশীলন, ম্যাচ কিংবা জাতীয় দলের কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে এক থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ থেকে ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, রোনালদোর ক্যাম্প ত্যাগের পেছনে গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল কি না এবং ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ছয় মাসের শাস্তির বিধান থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে তাঁকে পুরো ছয় মাসই নিষিদ্ধ করা হবে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের আইন বিশেষজ্ঞ গনসালো আলমেইদার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে প্রতিরোধমূলক নিষেধাজ্ঞার বিধানও যুক্ত হতে পারে। তবে সম্ভাব্য শাস্তি এবং চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন রোনালদো
ঘটনার কয়েক দিন পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন রোনালদো। ৬ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি কোচ হোর্হে জেসুসের বিরুদ্ধে কথা দিয়ে কথা না রাখার অভিযোগ তোলেন।
রোনালদোর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর খেলার সময় ও শারীরিক সক্ষমতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগে একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। পরে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার ব্যাপারেও সমঝোতা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। রোনালদোর অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি।
অন্যদিকে, কোচ জেসুস রোনালদোর সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। ফলে ঘটনাটি শুধু মাঠে খেলার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; এটি কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে আস্থা এবং যোগাযোগের প্রশ্নও সামনে এনেছে।
নিষেধাজ্ঞা কি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেবে?
রোনালদোর বয়স এখন ৪১ বছর। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচই তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করা এবং পর্তুগালের হয়ে অবদান রাখার লক্ষ্য তাঁর সামনে রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তাঁকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা প্রতিযোগিতায় বাইরে থাকতে হতে পারে। এর ফলে দলের আক্রমণভাগের পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
তবে রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি। বরং তিনি জানিয়েছেন, শাস্তি হয়ে থাকলে তা মেনে নেওয়ার পরও পর্তুগালের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। জাতীয় দলে তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত, কোচের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর পারফরম্যান্সের ওপর।
এখন কী হবে?
রোনালদোর ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার বিধান থাকলেও চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, জাতীয় দলের শিবির ত্যাগের সিদ্ধান্ত রোনালদোকে নতুন বিতর্কের মুখে ফেলেছে। কোচের সঙ্গে মতবিরোধ, শৃঙ্খলাবিধির সম্ভাব্য প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর ভবিষ্যৎ—সবকিছুই এখন আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কতটা শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়, তা নির্ভর করবে ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।
