চলতি অর্থবছরে সরকারি বন্ডের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ৫৭ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বড় অঙ্কের সরকারি বন্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের বন্ড ঋণ পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বন্ডের প্রায় ১২ শতাংশের মেয়াদ এ অর্থবছরে শেষ হবে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরোনো বন্ডের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি নতুন করে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামাল দেওয়া। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, একই সময়ে অনেক বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরকারের পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে সরকারকে নতুন ঋণ নিতে হতে পারে।
ঝুঁকি কমাতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কিছু বন্ড বাজার থেকে পুনঃক্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো বন্ডের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি নতুন বন্ড চালুর কথাও বলা হয়েছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের চাপ কমিয়ে তা কয়েক বছরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি বন্ড বাজারের আরেকটি সমস্যা হলো এর খণ্ডিত কাঠামো। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের ২৩৭টি বন্ড চালু ছিল। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক আগামী পাঁচ বছরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১২০টি বন্ডের জায়গায় ১০–১৫টি বড় বন্ড চালুর সুপারিশ করেছে। এতে বড় বন্ডে লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি বাজারের তারল্যও উন্নত হতে পারে।
তবে বন্ড পুনঃক্রয়ের জন্য সরকারের পর্যাপ্ত নগদ অর্থের ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বড় অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে জোগাড় করতে গেলে বাজারে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলো আগেভাগেই অর্থ সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
