গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও ঈশ্বরদী ইপিজেডে রপ্তানি আয় বেড়েছে
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নানা সংকটের মধ্যেও পাবনার পাকশীতে অবস্থিত ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ইপিজেডে তৈরি পোশাক, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, তাঁবু, উইগ, গ্লাভস, ব্যাটারি, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি হয়।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (BEPZA) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি–মার্চ সময়ে ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৭৭ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে ইপিজেডটিতে নতুন বিনিয়োগ এসেছে ২ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার এবং ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাত গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবের মুখে পড়লেও সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জুলাই–আগস্টে বাংলাদেশ মোট ৯১৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। তবে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।
BEPZA-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী ইপিজেডে ২১ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হয়েছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইপিজেডটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফলে জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ঈশ্বরদী ইপিজেডের রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকা স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়।
