মরদেহ সংরক্ষণে নেপালে তীব্র সংকট

বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর নদীর স্রোতে দূরবর্তী এলাকায় ভেসে যাওয়া মরদেহ একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে। ফলে মরদেহ সংরক্ষণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নুয়াকোট, ধাদিং, নবলপরাসী, চিতওয়ান, তনহুনসহ বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার করা মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গগুলোতে পাঠানো হলেও অনেক জায়গায় ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে চিতওয়ান ও পোখরায়। চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা থাকলেও উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভরতপুরে একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পোখরাতেও একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। আশপাশের কয়েকটি জেলার মর্গে জায়গা না থাকায় সেখানে ৯৩টি মরদেহ পাঠানো হয়েছে, যা শহরটির বিদ্যমান ধারণক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মরদেহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যাগেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করা। পোখরার মর্গগুলোতে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মরদেহ রাখা হচ্ছে। তবে এভাবে সীমিত সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য আরও উন্নত হিমায়িত সংরক্ষণব্যবস্থা প্রয়োজন, যা বর্তমানে পর্যাপ্ত নেই।

পরিচয় শনাক্তে পুলিশ মরদেহের ছবি, আঙুলের ছাপ, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে স্বজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

বন্যার পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবারগুলো চিতওয়ানসহ অন্যান্য এলাকায় ছুটে আসছে। ফলে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণের পাশাপাশি মরদেহের সুষ্ঠু সংরক্ষণ, শনাক্তকরণ এবং পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়াও এখন নেপাল সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *