ফুটবলের টানে মুগ্ধ ইনফান্তিনো, প্রশংসায় মরক্কো

মরক্কোর ফুটবলপ্রেম, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমবর্ধমান অবস্থানে মুগ্ধ হয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। দেশটির ফুটবল সংস্কৃতির প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ফুটবল মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন সংস্কৃতিকে কাছাকাছি আনা এবং বিশ্বজুড়ে আশার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম।

২০২৬ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মরক্কোয় পৌঁছান ইনফান্তিনো। রাজধানী রাবাতের কাছাকাছি সালেতে তাঁকে স্বাগত জানান রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মরক্কোর ফুটবল আয়োজনের সক্ষমতা ও খেলাটির প্রতি দেশটির মানুষের গভীর আবেগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ফুটবল ও আবেগের দেশ মরক্কো

মরক্কোয় ফিরে নিজের আনন্দ প্রকাশ করে ইনফান্তিনো দেশটিকে ফুটবল ও আবেগের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, মরক্কোর মানুষ শুধু ফুটবল খেলা উপভোগ করেন না; বরং খেলাটিকে সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও গ্রহণ করেছেন।

ফিফা সভাপতির মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা বিভিন্ন দেশের মানুষকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করে। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও এসব আয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান, শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তির মতো মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মরক্কোয় বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা রয়েছে এবং অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ সেই উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে নারী ফুটবলের বিকাশ এবং খেলাটিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ ঘিরে উৎসব

১৭ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ। এতে ছয়টি মহাদেশের ২৪টি জাতীয় দল অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টে মোট ৫২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক মরক্কো নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়। এ ছাড়া জার্মানি-আর্জেন্টিনা, উত্তর কোরিয়া-পুয়ের্তো রিকো এবং পোল্যান্ড-নাইজেরিয়ার ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় মাঠের লড়াই।

এই প্রতিযোগিতা তরুণ নারী ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ফুটবলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বৃদ্ধি, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখতে পারে।

মরক্কো টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ফলে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির ক্রীড়া অবকাঠামো ও আয়োজক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মরক্কো

মরক্কোর ফুটবলে ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ২০৩০ সালের ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি। স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে দেশটি।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, পরিবহন এবং অন্যান্য ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের অভিজ্ঞতা মরক্কোর ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

বিশ্ব ফুটবলে দেশটির অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি বড় আয়োজন পর্যটন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে উন্নত ব্যবস্থাপনা, দর্শকসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ফুটবল সবার জন্য—ইনফান্তিনোর বার্তা

ইনফান্তিনোর বক্তব্যের মূল সুর ছিল ফুটবলের সর্বজনীনতা। তিনি মনে করেন, এই খেলা সবার জন্য এবং এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে একত্রিত করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মকে আশা দেওয়া, সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া এবং সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ফুটবলের ভূমিকা রয়েছে।

মরক্কোর ফুটবলপ্রেমের প্রশংসা তাই শুধু একটি দেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের স্বীকৃতি নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরও প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ আয়োজন এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মরক্কোর ফুটবল উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইনফান্তিনোর প্রশংসা দেশটির আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে। এখন প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন, তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে এই অগ্রগতি কতটা স্থায়ী রূপ পায়, সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *