হাজার গোলের পথে মেসি, বাকি আর ৬৪

ফুটবল ইতিহাসে এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছেন না শুধু সমর্থকেরা, ইন্টার মায়ামির কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসও বিশ্বাস করেন, এই অসাধ্য সাধন করতে পারবেন লিওনেল মেসি। বয়স ৩৯ ছুঁলেও মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স, গোল করার ক্ষুধা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা দেখে মুগ্ধ আর্জেন্টাইন এই কোচ। তাঁর মতে, মেসি যে লক্ষ্য স্থির করেন, তা অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পায় ইন্টার মায়ামি। ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন মেসি। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

চার মিনিটে মেসির জোড়া গোল

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে জার্মান বেরতেরামের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। লুইস সুয়ারেজের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।

বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় মায়ামি। ৫৬ মিনিটে বেরতেরামের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর বল জালে পাঠান মেসি। এর মাত্র চার মিনিট পর সুয়ারেজের বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করে আটলান্টা ইউনাইটেড। তবে তাতে মায়ামির জয় আটকানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। এটি ছিল এমএলএসের চলতি মৌসুমে মায়ামির টানা তৃতীয় জয়।

হাজার গোল থেকে আর কত দূরে মেসি?

আটলান্টার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৬। অর্থাৎ, এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন আর ৬৪টি গোল।

এই হিসাবের মধ্যে বার্সেলোনা, প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে করা গোল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের গণনাপদ্ধতিতে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।

মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অংশের গোল এসেছে বার্সেলোনার জার্সিতে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন তিনি এবং সেখানে অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড গড়েছেন। পিএসজিতে দুই মৌসুম কাটানোর পর ২০২৩ সালে যোগ দেন ইন্টার মায়ামিতে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটিতেও গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন তিনি।

চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে

বয়স বাড়লেও মেসির গোল করার ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েনি। আটলান্টার বিপক্ষে জোড়া গোলের ফলে চলতি এমএলএস মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫-এ। এর মাধ্যমে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।

শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও মেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁর পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মায়ামির আক্রমণভাগকে কার্যকর করে তুলেছে।

মায়ামি কোচ কিলি গঞ্জালেসের মতে, মেসি এখনো প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন। ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে পারফর্ম করার পেছনে তাঁর এই মানসিকতা বড় ভূমিকা রেখেছে।

মেসির সামনে কি সম্ভব হাজার গোল?

পেশাদার ফুটবলে এক হাজার গোলের মাইলফলক অত্যন্ত বিরল। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না; দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা, নিয়মিত গোল করা, ফিটনেস ধরে রাখা এবং চোট এড়িয়ে চলাও জরুরি।

মেসির সামনে এখনো ৬৪ গোলের ব্যবধান রয়েছে। বর্তমান ছন্দ বজায় রাখতে পারলে এবং আরও কয়েক বছর খেলা চালিয়ে গেলে এই মাইলফলক অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে তিনি কখন অবসর নেবেন, ভবিষ্যতে কত ম্যাচ খেলবেন কিংবা গোল করার বর্তমান ধারাবাহিকতা কত দিন ধরে রাখতে পারবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও ক্যারিয়ারের এক হাজার গোলের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ফুটবলবিশ্বে এই মাইলফলক নিয়ে দুই কিংবদন্তিকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, আটলান্টার বিপক্ষে মেসির জোড়া গোল শুধু মায়ামিকে জয় এনে দেয়নি; বরং তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জনের সম্ভাবনাকেও সামনে এনেছে। কোচ কিলি গঞ্জালেসের বিশ্বাস, মেসির অদম্য মানসিকতা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে হাজার গোলের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের এই মহাতারকা ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সেই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *