সাফের প্রস্তুতিতে ডুলির ২৮ জনের দল, চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে অপেক্ষা

আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ২৮ সদস্যের খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন রোববার (১৮ অক্টোবর) সাফ কর্তৃপক্ষের কাছে এ তালিকা জমা দেওয়া হয়। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার এই আঞ্চলিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে দল গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তালিকা জমা

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল আয়োজক কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কয়েকটি দেশের অনুরোধে সময়সীমা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ২৮ ফুটবলারের নাম জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সাফের নিয়ম মেনেই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় সেই অনুযায়ী কাজ করেছেন তিনি।

খেলোয়াড় বাছাইয়ে কেন বাড়তি সতর্কতা?

এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলগুলো সর্বোচ্চ ৫০ জন ফুটবলার নিবন্ধন করতে পারলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৮ জনের তালিকা জমা দিতে হয়েছে। ফলে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোচিং স্টাফকে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাফ শুরুর আগে ঘরোয়া ফুটবলের বেশ কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। এসব ম্যাচে জাতীয় দলের সম্ভাব্য খেলোয়াড়েরা ক্লাবের হয়ে মাঠে নামবেন। ফলে কেউ চোটে পড়লে বা তাঁর পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন এলে দল গঠনের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।

আগে থেকেই জমা দেওয়া তালিকায় পরে পরিবর্তন আনার সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করা ডুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও পরিকল্পনা

বাংলাদেশ দলকে শক্তিশালী করতে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সাফের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় ডুলি আরও কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারকে পর্যবেক্ষণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর নজরে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন লুই ওয়াটসন, ট্রেভর ইসলাম, রোনান সুলিভান ও জায়ন হাকিম। তবে তাঁদের সবাই ২৮ সদস্যের জমা দেওয়া তালিকায় রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের শক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সূচি ও ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে বিদেশে খেলা ফুটবলারদের সময়মতো জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়া নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সাফে বাংলাদেশের সামনে বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশের সামনে এখন মূল লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতা শুরুর আগে দলকে প্রস্তুত করা, খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণ করা। শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় নির্বাচন নয়, মাঠে তাঁদের কার্যকর পারফরম্যান্স নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

২৮ জনের তালিকা জমা দেওয়া দল গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই তালিকা থেকেই চূড়ান্ত ম্যাচের একাদশ নির্ধারিত হবে—এমন নয়। প্রতিপক্ষ, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কৌশলগত প্রয়োজন বিবেচনা করেই ম্যাচভিত্তিক দল সাজাতে হবে কোচকে।

সব মিলিয়ে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ডুলির খেলোয়াড় নির্বাচন, প্রবাসী ফুটবলারদের প্রাপ্যতা এবং ঘরোয়া লিগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস—এই তিনটি বিষয়ই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *