পেনশন তহবিলে বাড়ল মুনাফা, গ্রাহকের হিসাবে যোগ হচ্ছে অর্জিত অর্থ

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা অর্জিত হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের হিসাব পর্যালোচনা করে সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা নির্ধারণ করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ)। এ মুনাফা গ্রাহকদের নিজ নিজ পেনশন হিসাবে যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা তাঁদের জমাকৃত অর্থের বিপরীতে অর্জিত মুনাফার সুবিধা পাবেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগ মুনাফা গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় মুনাফা বণ্টনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।

মোট মুনাফা প্রায় ২৯ কোটি টাকা

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় বিনিয়োগ করা অর্থ থেকে মোট ২৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

এ মুনাফা বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রাহকের জমার পরিমাণ এবং কত সময় ধরে অর্থ জমা ছিল, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ, সব গ্রাহক একই পরিমাণ মুনাফা পাবেন না। কারও জমার পরিমাণ বেশি হলে কিংবা তাঁর অর্থ দীর্ঘ সময় বিনিয়োগে থাকলে প্রাপ্য মুনাফার পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। অর্জিত মুনাফা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের নিজস্ব পেনশন হিসাবে যুক্ত হবে।

আগের অর্থবছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে সর্বোচ্চ হার বেড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ মুনাফার হার বেড়েছে ০.১১ শতাংশ পয়েন্ট।

তবে এ বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক গ্রাহকের হিসাবে একই হারে মুনাফা যুক্ত হবে। ব্যক্তির জমার পরিমাণ, জমার সময়কাল এবং প্রযোজ্য হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত হবে।

চারটি স্কিমের আওতায় গ্রাহকেরা সুবিধা পাচ্ছেন

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে চারটি স্কিম চালু রয়েছে। এগুলো হলো—

  • প্রবাস: বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য।
  • প্রগতি: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য।
  • সুরক্ষা: স্বকর্মে নিয়োজিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য।
  • সমতা: স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত স্কিম।

এসব স্কিমের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত চাঁদা জমা দিয়ে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার সুযোগ পান। স্কিমভেদে চাঁদার পরিমাণ, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে।

পেনশন হিসাবে মুনাফা যোগ হওয়ায় কী সুবিধা?

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কর্মজীবন শেষে মানুষের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কর্মজীবনে নির্দিষ্ট সময় পরপর চাঁদা জমা দেওয়ার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন। সেই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে যে মুনাফা অর্জিত হয়, তা গ্রাহকের হিসাবে যুক্ত হলে তাঁর পেনশন তহবিলের পরিমাণ বাড়ে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের নিরাপত্তা এবং যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। মুনাফা বণ্টনের সিদ্ধান্তে গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সর্বোপরি, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সর্বোচ্চ ১১.৭২ শতাংশ মুনাফা অর্জন গ্রাহকদের জন্য একটি ইতিবাচক খবর। তবে এই হারকে প্রত্যেক গ্রাহকের নিশ্চিত ব্যক্তিগত মুনাফার হার হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। নিজের হিসাবে কত টাকা মুনাফা যুক্ত হয়েছে, তা জানতে গ্রাহকদের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সেবা ও অনলাইন পোর্টালের তথ্য যাচাই করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *