জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে। দেশটিতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বিদেশি কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নির্দিষ্ট এই তারিখে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মপ্রত্যাশীদের নিয়োগের সময়সূচি, আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
জাপানে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা কেন বাড়ছ
জাপানে বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে। দেশটির শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (Specified Skilled Worker—SSW) এবং কারিগরি প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচিসহ একাধিক ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে কর্মী পাঠানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের SSW কর্মসূচির আওতায় ১৬টি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশও বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে।
কোন যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যাবে?
জাপানে কাজের সুযোগ পেতে আগ্রহীদের নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি জাপানি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, SSW কর্মসূচির ক্ষেত্রে সাধারণত আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। ভাষাগত যোগ্যতা হিসেবে জেএফটি-বেসিক (JFT-Basic) অথবা জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার (JLPT) এন৪ পর্যায়ের সনদ প্রয়োজন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তও রয়েছে। তবে পেশা ও নিয়োগের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত ভিন্ন হতে পারে
তাই শুধু জাপানি ভাষা জানলেই চাকরি নিশ্চিত হবে না। যে পেশায় কাজ করতে চান, সেই পেশার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও অন্যান্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
আবেদনকারীদের কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
জাপানে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের এখন থেকেই জাপানি ভাষা শেখা, কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোন খাতে কর্মী নেওয়া হচ্ছে, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান কারা এবং আবেদন কোথায় করতে হবে—এসব তথ্য সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাই করা জরুরি। চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যাচাই ছাড়া অর্থ দেওয়া উচিত নয়।
কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ১ এপ্রিল থেকে নিয়োগ শুরু হওয়ার দাবিকে নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা হিসেবে প্রচার করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের সময়সূচি এবং আবেদনপ্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। সঠিক তথ্য, ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ থাকলে কর্মপ্রত্যাশীরা বৈধভাবে বিদেশে কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন।
